অং মারমা

বুয়া

০১.

উটেরা চিনে নক্ষত্র আর পাখিরা চিনে গাছ।
ঠিক একইভাবে,
আমিও একজন রান্নাকরা বুয়া’কে চিনি।

তার খয়েরী মনের রঙ,
কপালে বয়েসের ছাপ, চোখের নীচে চিন্তার ছায়া।
সেই চোখের তলে তার জীবন, তারই ভাঙা ঘর।

তিনি তরকারি কুটতে কুটতে ভাবেন-
আজ তার রোগাটে স্বামীর ওষুধ শেষ,
চাল কুলাবে না রাত্রে, আলু আছে তিন চারটে
তেল আছে, লংকা নেই।
যাগ’জ্ঞে, পানিতেও সেদ্ধ করে খাওয়া যাবে সেইসব।
চাল ধুতে গিয়ে তিনি নিজের চোখের জল নিজেই ধুয়ে নেন, চুপচাপ-
উনুনে বসিয়ে দেন ভাতের পাতিল।
তাই তো বলি, ভাতের কাছে
মাঝেমাঝে এতো বালু কেনো,পাথর কেনো, গন্ধ কেনো।

আজ তার নিজের বলে কিছু নেই জেনে গেছে, যেকারণে-
এখন কোনো অভাব আর তাকে তেমন করে
কখনো দুঃখবোধ করাতে পারে না।

এখন শুধু ঝোল তুলে মুখে নেই,
নুন কম হলে নুন দেই, বেশি হলে কিছুই করেনা।
মাঝেমাঝে ছেলে স্কুল বেতনের কথা ভাবতে ভাবতে
ঠিকঠাক ভাত ফুটেছে কি ফুটেনাই
তার খবর ও তিনি নিতে জানেন না।

আমি জানি, রান্না করতে করতে তারও সাধ করে
আজ তার বাসায় মলা মাছের রান্না হবে
খিচুরি দিয়ে মুর্গী হবে।
ছেলের নতুন জামা হবে, স্বামী আগের মতো’ই ক্ষেতে যাবে, সবজি বেঁচবে।
গরু নিয়ে ফিরবে বাড়ি সন্ধ্যায়….
আসলে, বুয়ারাও চাই তার ও একজন বুয়া হোক।

০২.

খোদা, বুয়াদের হাতে বাড়িয়ে দিও স্বাদ
আমিও খেয়ে বাঁচি অন্তত দু’ মুঠো ভাত।

Advertisements
Create your website at WordPress.com
Get started
%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close