শিমন রায়হান

 

মায়াহরিণ

যেহেতু হরিণের নেই আয়নার জ্ঞান
আব্বা-মা আমার দেখা প্রথম মায়াহরিণ
আদর পেলেই তাদের ঈশ্বর লাগে
এদনের বাথানে
আধখাওয়া ঘাস মুখে নির্নিমেষ ছবি হয়ে থাকি
থাকি স্বল্পায়ু মাছের মুদ্রায়
আমাদের সাক্ষাতে-বিচ্ছেদে ভাসে
খোদাবন্দের জ্বরের খবর
জ্বরের জিভে থাকে জলস্বাদ পৃথ্বীর

 

কথাকার্ণিশ

খেলাটা খেয়ালের বশে শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে এলো
আর শব্দসমূহ হতে থাকল হৃদয়ের ঠোঁট
কী ধূসর কোলাহল
এরপরেও ওৎ পেতে থাকা টিকটিকি দুটিকে
সেলফিশ বলা সঙ্গত হবে না
যেহেতু এই নির্জনতা বিস্ময় হয়ে পৌঁছোচ্ছে না
কেউ নেই অথচ অদ্ভূত জড়তায়
বাড়ি ফেরা হয়নি কিংবা বাড়িই ছিল না বলে
বুলফাইটের ময়দানে আচানক আটকে যাওয়ায়
টাইমমেশিনের প্রয়োজনীয়তা মনে পড়ছে
কথার কৌশলে বাড়ছে ছেদ ও ছায়া

 

অপ্রকৃতিস্থ ঘোড়ার নাইটমেয়ার

এমনকি ক্ষুধা বশে রাখার প্রস্তাবে
আমাকেও খেয়ে ফেলতে পারো তুমি

 

ময়ুরকুমারী

রুপকথার গল্পে- দূরতিক্রম্য নদী, চোরাবালি
দেওদানব আর আমাদের হাসফাস
এসব পেরিয়ে চুম্বন পোলভোল্ট খেলে
আলিঙ্গন পেরোয় পুলসিরাত
জাদুর ঘুমে রাজকন্যা আর সবচে উঁচু মিনার থেকে
নেমে আসে দুঃস্বপ্নের আশ্চর্য প্যারাস্যুট
ডালিমকুমারের হাতের তালু ঘেমে যায় উদ্বেগে
তবু রুপকথার নীল বইয়ে তার প্রতিশোধ
সংশয়ের রাতে ধনুক হারিয়ে পায়
পীতরঙা ঘোড়ার সুতীব্র জিন
মখমলের ফুল উড়ে যায় সূচিকর্মের বিকল্প নগরে


লেজ ও নাটাই বিষয়ক

লেজ দেখে কুকুরকে ঘুড়ি মনে হয়
ঘুড়িকে কুকুর
কেবল দৃশ্যান্তরের ফাঁকে
কোথাও নাটাই হাতে বসে থাকছেন প্রভু

 

কথাসৃ
Advertisements