“ব্লগজিন বা ওয়েবজিনের ধারণাটাই আসছে লিটল ম্যাগাজিনরে কেন্দ্র করে।”- উপল বড়ুয়া

ওয়াকিং ডিসট্যান্স’র ওপেন উইন্ডো সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে কথা হয়েছে এ সময়ের অন্যতম লেখক ও কবি উপল বড়ুয়ার সঙ্গে…

41746965_1857057181015198_100619148031164416_n
কবি ও লেখক উপল বড়ুয়া

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: উপল বড়ুয়া, কেমন আছো? ওয়াকিং ডিসট্যান্সের সেপ্টেম্বর ২০১৮ ওপেন উইন্ডোতে তোমাকে স্বাগতম ও অভিনন্দন…

উপল বড়ুয়া: তোমাদের সাইটটা দেখতেছি। ভাল হইতেছে।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: প্রথমেই জানাতে চাই আমাদের এই আড্ডার বিষয়টাকে ৪টা পর্বে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

প্রথম পর্ব: যে উত্তরতম হেঁটে আসো…

এই পর্বে তোমার কাছে জানতে চাইছি তোমার লেখালেখি শুরুর গল্পটা। কখন এবং কিভাবে লেখালেখির জগতে প্রবেশ করলে? ছোটোবেলা থেকে কি এমন ইচ্ছা ছিলো যে লেখক হবো?

উপল বড়ুয়া: ওকে আলাপটা তোমারে ধন্যবাদ জানায়া শুরু করি। যেহেতু আমার কথা জানার জন্য তুমি সময় দিতেছো। ওকে। লেখালেখির শুরুটা মূলত আমার বাবাকে (অভি বড়ুয়া) দেখে। উনি কবিতা লিখতেন। না খেয়ে-দেয়ে বই কিনতে ভালোবাসতেন। নব্বই দশকের শেষ দিকে উনি ‘পালা বদলের ইস্তেহার’ নামে একটা কাব্যগ্রন্থও পাবলিশ করেন। এছাড়া ‘মহার্ঘ্য’ নামে একটা লিটলম্যাগও সম্পাদনা করতেন। ঐ সময়টাতে আমি সম্ভবত থ্রি বা ফোরের ছাত্র। তো, আমার বাপরে দেখতাম বেকার অবস্থায় রাত জেগে চেরাগের আলোতে লিখে চলেছেন। প্রকাশিত কবিতা কেটে ফাইলবন্দী করতেছেন। বা টাকা ধার চেয়ে বন্ধুর কাছে চিঠি। অধিকাংশ সময় উনার চাকরি থাকতো না। এদিকে একাডেমিক লাইফ আমার ভাল লাগতো না। সময় আমি কাটাইতাম তার জমানো বই পড়ে বা ডায়েরী ঘেঁটে। তো এই করতে করতে কোন সময় লেখার জগতে ঢুকে পড়ছি তা খেয়াল নেই। ছাপার অক্ষরে আমার প্রথম কবিতা প্রকাশিত ‘দৈনিক কক্সবাজার’ পত্রিকায়। আমার বাপের হাত ধরে। যদিও প্রথম জীবনে আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল ফুটবলার হওয়া। কিন্তু ঐটাতে ব্যর্থ হওয়ার পরপরই লেখালেখির দিকে ঝুঁকে যাওয়া।

দ্বিতীয় পর্ব: সমুদ্দুরে চোখ…

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: এবার ২০১৮ এর জঙশন লিটল ম্যাগাজিনে তোমার একটি গল্প “গল্পের ভেতরের গল্পহীনতা” প্রকাশিত হয়েছে। জঙশন তো বাংলাদেশের অন্যতম একটি লিটল ম্যাগাজিন। নিজেকে লিটল ম্যাগাজিনের লেখক হিসাবে দেখতে তোমার কেমন লাগে? লেখালেখির শুরু থেকেই কি এমনটা ভাবতে যে লিটল ম্যাগাজিনই হবে তোমার লেখালেখি চর্চার জায়গা?

উপল বড়ুয়া: লেখালেখির শুরুতে আমি কেবল লেখালেখিই করতে চাইছি। ২০১৪ সালের দিকে আমার হাতে কিছু মূলধারার লিটল ম্যাগাজিন এসে পড়ে। গান্ডীব, দ্রষ্টব্য, শিরদাঁড়া একবিংশ, লিরিক, জঙশন, বিন্দু, চারবাক, সতীর্থ, পথরেখা, ওপেনটেক্স্ট পড়াকালে ভাবি নাই, কেবল লিটল ম্যাগাজিনে লিখবো। যদিও এর আগে বাংলা একাডেমির ‘উত্তরাধিকার’ বা সমকালের ‘কালের খেয়া’তে সামান্য লিখছি। কিন্তু লিটল ম্যাগাজিন আমার সাহিত্যের ধারণা পাল্টায়া দিছিল। লিটল ম্যাগাজিন ধারণাটা বৃহত্তর। আমি অত সহজে নিজেরে লিটলম্যাগের লেখক দাবী করতে পারবো না। ভন্ডামি হয়ে যাবে। সাহিত্যের নতুন মাধ্যম ব্লগজিন বা ওয়েবজিনেও নিয়মিত লিখছি আমি। সঙ্গে অ-লিটল ম্যাগাজিনেও। এটা ভাল হইতো যদি প্রতিষ্ঠানবিরোধী কয়েকটা ম্যাগে লিখতে পারতাম। আমাদের সাহিত্যে বড় একটা পরোক্ষ পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানবিরোধী ছোট কাগজগুলো।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: অনেকে লিটল ম্যাগাজিনের সাথে ব্লগজিন বা ওয়েব ম্যাগাজিনের বিরোধীতা আছে বলে মনে করে। এ বিষয়টা নিয়ে তোমার নিজস্ব মতামত কি?

উপল বড়ুয়া: এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমার ঋত্বিক ঘটকের কথা মনে পড়ে গেলো। মাধ্যম যাই হোক, শেষ পর্যন্ত তুমি-আমি কিন্তু লিখতে পারলেই সুখি। এই খাতা-কলম বা কি-বোর্ড—এটাই আমার মাধ্যম। বাকিটুকু স্রেফ একটা পত্রিকা যা করে— তাই। ব্লগজিন বা ওয়েবজিনের ধারণাটাই আসছে লিটল ম্যাগাজিনরে কেন্দ্র করে। সুতরাং এটা অনেকটা পার্টি ভেঙে দল করার মতো ব্যাপার। আর প্রতিটা ক্ষেত্রে বিরোধ থাকাটা আমি পছন্দ করি।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: চট্টগ্রাম থাকাকালীর তোমার সম্পাদনায় একটি লিটল ম্যাগাজিন “টঙ” প্রকাশিত হতো যার প্রকাশনা এখন বন্ধ আছে। “টঙ” প্রকাশ করার ইচ্ছাটা বা ভাবনাটা কেনো ও কিভাবে এলো? দীর্ঘদিন ধরে টঙের প্রকাশনা বন্ধ থাকার কারণ কি?

উপল বড়ুয়া: ‘টঙ’ বন্ধ হওয়ার মূল কারণ মানসিক দূরত্ব। সঙ্গে আর্থিক অভাব তো ছিলই। দুই সংখ্যা বের করার পরই কাজটা বন্ধ করে দিতে হয় আমাদের। লিটলম্যাগ করার উদ্দেশ্য বলতে যা থাকে আর কি— পকেটের পয়সা খরচ করে বাংলা সাহিত্যে আমরা কিছুটা ভাঙচুর চালাতে চেয়েছিলাম। সেই ভাঙচুরে আমরাই একদিন ভেঙে যাই। এখনো প্রেস বাবদ কয়েকহাজার টাকা পরিশোধ করতে পারি নাই। একটা সময় সন্ধ্যাকালে কবি বন্ধু কুহন ও আমি চট্টগ্রামের চকবাজারে একটা টঙে নিয়মিত আড্ডা দিতাম। আমাদের সঙ্গে আরো ভাই-ব্রাদার থাকতো। তো ঐখান থেকেই ‘টঙ’র যাত্রা। আমাদের দারুণ একটা উশৃঙ্খল সময় ছিল। সময়ে-অসময়ে উইড ও ওয়াইনে মশগুল থাকতাম। তো এসব করতে করতেই সময় গেছে। ‘টঙ’ করা হয়ে উঠে নাই। অবশ্য তৃতীয় সংখ্যার জন্য কিছু লেখা সংগ্রহ করা শুরু করছিলাম। পরে টের পাইছি, আমাদের নিজেদের ভাবনায় দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। এরপর সরে পড়ছি যে যার মতো।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: তোমার প্রথম বই “কানা রাজার সুড়ঙ্গ” এবং দ্বিতীয় বই “উইডের তালে তালে কয়েকজন সন্ধ্যা”। বই দুইটার বিষয়ে জানতে চাই?

উপল বড়ুয়া: দুইটা বই-ই হুট করে করা। অগ্রিম সিদ্ধান্তহীন। ২০১৫ সালে ‘কানা রাজার সুড়ঙ্গ’ করার পর অনেক ঝামেলা পোহাতে হইছে। বইতে বানান ভুলের পাশাপাশি বাঁধাইয়েও সমস্যা ছিল। পরের বছর ‘খড়িমাটি’ প্রকাশনীর মনিরুল মনির ভাই রিস্ক নিয়েই বইটার সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। এরপর প্রায় কবিতা লেখা ছেড়ে দিছিলাম। তিন বছরে ২১/২২টা কবিতা জমছিল। গত বইমেলায় মাঝ সময়ে হুট করে বই করার প্রস্তাব দেন ‘উড়কি’ প্রকাশনীর মোশারফ খোকন ভাই। প্রস্তাবটি আসে মূলত সাগরনীল দীপ খান ভাইয়ের মাধ্যমে। তো তিন-চারদিনে মধ্যে পান্ডুলিপি গুছিয়ে বই (উইডের তালে তালে কয়েকজন সন্ধ্যা) করা। বড় পরিকল্পনা নিয়ে আমি কখনো কাজ করি না। তবে এই সুযোগে ধন্যবাদ জানাই, দুইটা অনবদ্য প্রচ্ছদ করে দেওয়ার জন্য দুই প্রিয় শিল্পী অরণ্য শর্মা ও রাজীব দত্তকে।

 

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: তোমার কি মনে হয় একজন তরুন লেখকের নিজের প্রথম বইটা প্রকাশ করবার উপযুক্ত সময় কখন?

উপল বড়ুয়া: নির্দিষ্ট কোন সময়ের দরকার নাই। যখন মনে হবে তখনই অ্যাকশন নেয়া যায়। লেখা থাকেলেই হইলো। কোন ধরণে লেখা নিশ্চয় বুঝতে পারতেছো।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: দ্বিতীয় দশক প্রায় শেষ হতে চললো। এই দশকে যেসকল লেখক লিখতে শুরু করেছেন তাদের নিয়ে তোমার মতামত কি?

উপল বড়ুয়া: মতামতে আমার আস্থা নাই। তবুও বলি, তারা যেন সিনিয়রদের মধুর বাক্য না শুনে নিজের হৃদয়ের কথা শুনে।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: তৃতীয় দশকে যেসকল লেখকরা আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাও?

উপল বড়ুয়া: আমার হৃদয়ের ভাইবোনেরা যেন সত্তুর থেকে দ্বিতীয় দশকের সকল কবিকে অস্বীকার করতে শিখে। এবং তারা যেন হয়ে উঠে বেদনার একেকটা ভারবাহী ঘোড়া।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: লেখকদের জন্য সিন্ডিকেটের বিষয়টাকে কিভাবে দ্যাখো? একজন লেখকের জন্য আদৌ কি এর কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে?

উপল বড়ুয়া: সিন্ডিকেট ভাল জিনিস। সিন্ডিকেট বনাম সিন্ডিকেটের বিরোধে ভাল কিছু তৈরি হলেই হলো। তবে একজন লেখকের জন্য কোন প্রকার সিন্ডিকেটের দরকার নেই। সে যেন সিন্ডিকেটের ভেতরও একা একা হাঁটে। নিজের সঙ্গে নিজেই সিন্ডিকেট করে বসে।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: লেখকের লেখালেখির জন্য আড্ডা কি কোনো ভূমিকা রাখে?

উপল বড়ুয়া: আড্ডা সাহিত্যের প্রাণ। কিন্তু আড্ডার বাইরেও ভাল সাহিত্য রচিত হইতে পারে। শেষ পর্যন্ত তো তোমাকে নিজের ভাবনাটা কারো না কারো সঙ্গে মুখোমুখি শেয়ার করতে হবে। আড্ডার ধরণটা বদলে গেছে। এই যে, তুমি আর আমি এখন অনেক দূরত্বে থেকেও কতো কথা বলতেছি। সাহিত্য মূলত এই কম্যুনিকেশনটা তৈরি করে দেয়।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: সাহিত্যের ক্ষেত্রে পুরষ্কার দেয়া ও নেয়ার প্রথাটাকে কিভাবে দ্যাখো?

উপল বড়ুয়া: পুরস্কার যার দরকার সে নেবে। ঐটাতে আমার মাথা ব্যথা নাই। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ তার কাজের স্বীকৃতি চায়। সেই ইচ্ছা থেকে এসব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া-নেওয়া। তা সর্বক্ষেত্রে বিরাজমান। এটা চলমান প্রথা। তবে আমি কখনো পুরস্কার চাই না। এমনকি তা কয়েক লক্ষ টাকার হলেও। পুরস্কারের জন্য আমি লেখালেখি করতে আসি নাই। লেখালেখির করে যদি কেউ সম্মানী দেয় তা সাদরে গ্রহণ করি। আর অনেকরে লেখা দেওয়ার সময় আগেই বলে দিই, টাকার পরিমাণটা।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: তোমার গানের প্রতি আলাদা একটা ঝোঁক আছে। শহুরে ব্যান্ডের সাথেও যুক্ত ছিলে। গান নিয়ে কি কোনো পরিকল্পনা আছে? শহুরে ব্যান্ড নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই?

উপল বড়ুয়া: মিউজিক। এই মনোটোনাস লাইফে আমার এখন একমাত্র নেশা হচ্ছে গান। গান শোনা। আমি আজান দেওয়ার আগ পর্যন্ত গান শুনি। হেডফোন কানেই ঘুমায়া যাই। গান শোনার ক্ষেত্রে আমি সর্বভূক। এমন না যে, ভোরের দিকে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনি। ভোরের দিকে আমার রক মিউজিক শুনতে ভাল লাগে। আর শহুরে’র সঙ্গে এখনো আছি। কিন্তু কিলোমিটারের দূরত্ব বেড়েছে। শহুরে’র ভোকাল তৌকির মাহমুদ ও গিটারিস্ট সাফায়েত আদীবের সঙ্গে বহুবার কথা হয়েছে দুইটা গানের রেকর্ড নিয়ে। কিন্তু সময় ও আর্থিক সংকটের কারণে কিছু্ই হয়ে উঠছে না। তো সামনে শহুরে-কে নিয়ে একটা গদ্য লিখতেছি। আশা করি, খুব শীঘ্র এতদ্ববিষয়ে তুমি বিস্তারিত জানতে পারবা।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: কখনও কি সিনেমা ডিরেকশন দেয়ার ইচ্ছা আছে? কখনও যদি সাহিত্য নির্ভর সিনেমা ডিরেকশন দাও তবে কার লেখা সিলেক্ট করবে?

উপল বড়ুয়া: গত বছরও আমি শর্টফিল্ম বানানোর জন্য হাজারখানেক টাকা জলাঞ্জলি দিছি। শ্যুট করতে যাব—এমন সময় আমার ক্যারেক্টাররা হাওয়া। সিনেমা বানাতে পারবো কিনা জানি না। তবে সাহিত্য নির্ভর সিনেমা বানাতে চাই না। স্ক্রিপ্টটা আমি আলাদাভাবে লিখতে চাই। 

তৃতীয় পর্ব: ফেসবুক টাইমলাইন

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: তুমি একবার তোমার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দ্বিতীয় দশকের তোমার প্রিয় দশজন লেখকের নাম উল্লেখ করেছিলে। এটা নিয়ে ঐ সময় তোমাকে বেশ হেনস্থা হতে হয়েছিলো। সেই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জানতে চাই?

উপল বড়ুয়া: মোটামুটি হেনস্তার শিকার হতে হইছিল। প্রহারের হুমকি-ধামকিও দিছিল অনেকে। অনেকজন ব্লক/আনফ্রেন্ড করছে ফেসবুকে। আমি তা বেশ উপভোগ করতাম। যাদের নাম নিই নাই তারা এখনও সাহিত্য করে। মূলত সময়টাতে আমি তাদেরকে আরো বেশি অ্যাগ্রেসিভ ভাবে লিটারেচার করার জন্য ধাক্কা দিতে চেয়েছিলাম।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: বেশ কিছুদিন আগে তোমার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে কবিতাকে কোবতে লেখায় একজন বেশ রেগে গিয়েছিলেন তোমার আরেকটা স্যাটাসে তুমি লিখেছিলে এ বিষয়ে। কবিতাকে কোবতে বলার কি কারণ?

উপল বড়ুয়া: আমি অনেকটা নেগেটিভ ক্যারেক্টারের লোক। প্রচলিত অনেক কিছুই নিতে পারি না। এই নয় যে আমি চরম প্রগতিশীল। ‘কোবতে’ শব্দটা আমার না। শব্দটা বহুল চর্চিত ও বহু পুরানো। নব্বইয়ের দিকে শব্দটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাইছিল। ‘কোবতে’ বিদ্রুপাত্মক। কয়েকদিন আগে আমি আরেকটা স্যাটায়ার বানাইছি। কাউরে নিয়ে বিদ্রুপ করতে ইচ্ছে হইলে ডাকি, ‘প্রথম আলোর কবি।’

চতুর্থ পর্ব: ঝড়ের নিমন্ত্রণে… (এখানে একটা প্রশ্নের দুটা উত্তর থাকবে যেকোনো একটা বেছে নিতে হবে)

প্রশ্ন- প্রিয় শহর: ঢাকা/ চট্টগ্রাম

উপল বড়ুয়া: চট্টগ্রাম

প্রশ্ন- নিজের প্রিয় বই: কানা রাজার সুড়ঙ্গ/ উইডের তালে তালে কয়েকজন সন্ধ্যা

উপল বড়ুয়া: উইডের তালে তালে কয়েকজন সন্ধ্যা

প্রশ্ন- কবিতা/গল্প

উপল বড়ুয়া: কবিতা

প্রশ্ন- সিন্ডিকেট/একলা চলোরে

উপল বড়ুয়া: একলা চলোরে

প্রশ্ন- সিগরেট/চা

উপল বড়ুয়া: সিগারেট

প্রশ্ন- প্রিন্ট পত্রিকা/ব্লগজিন

উপল বড়ুয়া: প্রিন্ট পত্রিকা

শেষ পর্ব: হাঁটার দূরত্ব…

তোমার জন্য একটা বিশাল চমক আছে। তোমার একজন খুব কাছের বন্ধু তোমার সম্পর্কে ওয়াকিং ডিসট্যান্স এর ওপেন উইন্ডোতে কমেন্ট জানিয়েছে।

সুমিতাভ অপু: উপল কি ভালো ফুটবল খেলতো, আমার মনে হয় সে লেখালেখি না করে ফুটবল খেলাটা চালিয়ে যেতে পারত ভালো হতো। উল্লেখ্য যে উপলের গ্রাম থেকে অনেক ফুটবলার প্রতিবছর বাংলাদেশ এর লিগ গুলোতে খেলে। এর ধারাবাহিকতায় আমাদের রামু বাইপাসে কিন্তু ফুটবলের স্তম্ভ তৈরী করা হয়েছে। ফুটবল কিন্তু উপলের গ্রামের ঐহিত্য।

ওয়াকিং ডিসট্যান্স: অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা উপল বড়ুয়া এতোটা সময় দেয়ার জন্য ওয়াকিং ডিসট্যান্স এর ওপেন উইন্ডোতে। আরও অনেক কথা বাকি থেকে গেলো। নিশ্চয়ই পরবর্তী কোনো একদিন আবার কথা হবে তোমার সঙ্গে… ভালো থাকো… নিরন্তর অভিনন্দন…

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

Create your website at WordPress.com
Get started
%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close