উপল বড়ুয়া

 

খোদা আদম সম্পর্কিত সুসমাচার

বহু বরফাচ্ছাদিত পর্বত, খাড়া পাহাড়, ভয়াল অরণ্য, হিংস্র নদী, দূ’কূলদৃশ্যহীন সাগর ও তপ্ত মরুভূমি পার হয়ে্ আদম অবশেষে পৌঁছলেন তাবৎ দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তা মহান খোদার কাছে। খোদা তখন অন্ধকারের চেয়েও বিষণ্ন অন্ধকার এক গুহায় পদ্মাসনে বসে ছিলেন ধ্যানরত অবস্থায়। আদম সহস্রতকোটি মা্ইল পথ ভ্রমণে ক্লান্ত এবং বহু প্রতীক্ষার অবসানের পর হীরকদ্যুতির খোদাকে দেখে নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারলেন না আর। জ্ঞানে ও অজ্ঞানে আদম কাঁদতে লাগলেন। আনন্দ ও উদ্যমে আদম হাসতে লাগলেন। তারপর প্রভূত মাধুর্যমণ্ডিত শব্দবাণে খোদার প্রশংসা করতে লেগে গেলেন, হে মহান ত্রাতা, খোদা, এই বিশ্বসংসারের প্রতিষ্ঠতা, জগৎশ্রেষ্ঠ, অদ্বিতীয়, আগুন জলের বিন্যাসকারী, দুঃখ সুখের জন্মদাতা, শয়তান অন্ধকার দমনকারী, মনুষ্যকারিগর, প্রজ্ঞাবান, গরীবের বন্ধু, জগৎবিধাতা

আদম এইরূপ প্রশংসার পর প্রশংসা করে যেতেই লাগলেন দিনের পর দিন।শত ও সহস্য বৎসর। খোদা এতদিন ধৈর্যসহকারে চুপচাপ ও আদমের প্রশংসা গুণে মুগ্ধ হলেন।হাসলেন। গৌরবান্বিত হলেন। তারপর একদিন ইশারায় জানালেন, ধীরে, আরও ধীরে। কিন্তু আদমের থামার কোন লক্ষণ তিনি দেখলেন না। আদমের এহেন কাণ্ডজ্ঞানে খোদার ধ্যানে বিচ্যুতি ঘটতে লাগলো সময়ে সময়ে। কিন্তু আদম স্তুতির পর স্তুতি করেই যাচ্ছেন তো করেই যাচ্ছেন। হঠাৎ আদমের অতি প্রশংসায় তিনি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে রেগে গেলেন। কাঁহাতক আর সহ্য হয় এত প্রশংসা! তিনি তখন আদমের অতি প্রশংসাতে বিরক্তি ও রাগে চক্ষু সামান্য খুলে আকাশের দিকে তাকাতেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ও বিকট শব্দে বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। এরপর তাঁর তর্জনীসহকারে ভূ-পৃষ্ঠে কিঞ্চিৎ ঠোকা দিতেই দুনিয়া জুড়ে শুরু হয়ে গেল ভূ-কম্পন। সামান্য থুথু ফেলতেই পৃথিবী ভেসে গেলো বন্যায়।

দুনিয়ার এমন কঠিন রূপ দেখে আদম ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলেন। তবু তাঁর সাহসে এলো না খোদাকে কিছু জিজ্ঞেস করার। মহাশ্রেষ্ঠ খোদা তখন তাঁর রাগ কমাতে পরপর পর্বতসমান জ্বলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্নিঝড় বয়ে দিলেন জগতে। মরুঝড়ে ঢেকে গেলো খেজুরবৃক্ষের গলা পর্যন্ত। এভাবে চললো দিনের সুর্যাস্ত পর্যন্ত। এরপর ভয়ে জবথবু বুদ্ধিসম্পন্ন আদম ভীত ও হাতজোড়ে খোদাকে জিজ্ঞেস করলেন, খোদা, দুনিয়ার কি আজ ক্রান্তিকাল?’ সৌম্যকান্তির খোদা তদ্রুপ আগের মতোই ধ্যানমান; ভরাট কিন্তু সুমিষ্ট কণ্ঠে জানালেন, না, তুমি তোমার ভাইদের অতি প্রশংসায় আমি ক্লান্ত বিরক্ত।

 —‘তাহলে, প্রভু, আপনি কি প্রশংসা শুনতে আগ্রহী নন?’ আদম বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন।

—‘অবশ্যই আমি প্রশংসা ও গুণগান শুনতে আগ্রহী। যেহেতু আমি দিনের পর দিন কষ্ট করে মাটি থেকে প্রাণ নিয়ে তোমাদের বানিয়েছি।  অজস্য ঝামেলার মধ্যেও তোমাদের দিকনির্দেশনা ও পালন করি প্রতিদিন। সুতরাং আমার প্রশংসা করো পরিমাণ মতো। যতটুকু আমি। এবং ভুলে যেও না আমার প্রিয় ভাই, বন্ধু ও পুত্র প্রিয় শয়তানকে। যে তোমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় আমার অস্তিত্ব। আর ফলে তোমরা আমার স্তুতি ও শরণ গ্রহণ করো প্রতিনিয়ত।

—‘প্রভু, আমি উপলব্ধি করেছি। আমি বুঝেছি। তাহলে আমার হৃদয়ের ভাইবোন মানুষদের জন্য কি বার্তা নিয়ে যাব ফেরার আগে?’

—‘মানুষের জন্য আমার প্রেম ও জ্ঞান নিয়ে যেও। এবং অবশ্যই বলবে তাদের, তোমাদের খোদা, তোমাদের অতি প্রশংসাতে ক্লান্ত ও বিরক্ত। তাদেরকে বলবে, জল তোমাদের তৃষ্ণা মেটায়, তোমরা জলকে ভালোবাসো। পাখি তোমাদের গান শুনায়, তোমরা পাখিকে মেরো না। বৃক্ষ ছায়াদানকারী প্রকৃত বন্ধু, তোমরা বৃক্ষকে যত্নে রেখো। ভালবাসো জন্মদাত্রী পিতা ও মাতাকে। বিষফোঁড়ার মতো জ্ঞানকে বয়ে চলো অবিরাম। অর্থ নয়, কীর্তি নয়, বিপন্ন বিষ্ময় হোক তোমাদের বেঁচে থাকার গান।’

খোদা তাঁর বার্তা ও উপদেশ দিয়ে পুনরায় ডুবে গেলেন ধ্যানে। জগৎ চলমান। তিনি এখন দিব্যচোখে অবলোকন করবেন দুনিয়া। তাঁর দায়িত্ব কেবল দেখা। তিনি মানুষকেও দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন একেকটা। আদমকে দিয়েছেন বার্তা বহনের ভার। সুতরাং আদম অক্লান্ত চললেন পুনরায় পাহাড় ভেঙে, নদী সাঁতরে মানুষের কাছে। শাস্তা খোদার বার্তা নিয়ে। মানুষ বড় অসহায় ও নির্বোধ, তাঁকে দাঁড়াতে হবে মানুষের পাশে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

Create your website at WordPress.com
Get started
%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close