আশরাফ চৌধুরী

নামহীন-এক 

আমি একটি ট্রেনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে—
রেললাইন ফিসফিসায়; পতঙ্গ তুমি সরে যাও
তুমি পারবেনা, তোমার খুলি গুঁড়িয়ে যাবে
মাড়িয়ে যাবে মালবাহী দানব
তুমি বা তোমার সফেদ অবয়ব বিভীষিকায় 
মাতিয়ে রাখবে রেলচত্ত্বর
তুমি পারবেনা তুমি এখনও প্রস্তুত নও?
আমি আমার জীবনের ৩২তম ট্রেনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে—
কথা বলছিলাম গুটি কয়েক প্রজাপতির সাথে। 
প্রবল বিনয়ে ভীমাকৃতি দানব—
কোন মৌলিক পরবর্তী সংখ্যাবয়ব
এগিয়ে এলে
সামনে এসে দাঁড়ালো প্রাচীণতম সুরভী;
একেকটা আলোক শিখা এখন ভেদ করে যাবে
আমার জীবাশ্ম-শরীর,
ছাই থেকে পুনরগ্নি হয়ে উঠবে 
খুব ধীরে, সূর্য উঠছে দূরে?


নামহীন-দুই

সদর দরোজায় সূর্যের লাথি
মিলিটারি কায়দায় কড়া নাড়া রোদ।
স্নিগ্ধ-উগ্র একদম নন- সফিস্টিকেটেড।
এমনই একটা সকাল দেখার উদ্দেশ্যে 
বহুবার ফিরে এসেছি অচিনপুর যেতে যেয়ে।
এভাবে সদর দরোজায় লাথি মারা
মিশুক সারথী মিচকে হাসিতে বলে যেতে থাকে,
কি ফিসফিসে আঁশটেসুরে—
সকাল? ধোঁয়া ওঠা ভোর? মাটির ঘর বেড়ার গন্ধ?
বৃষ্টিতে শ্যাওলা গন্ধা আছাড়?
সেসব তো হয় বিক্রি না হয় ভাগ হয়ে গ্যাছে কবে!
যত শৈশব বিকিয়ে কটকটি কেনা হয়েছে প্রচুর
টিকে গ্যাছে কর্পোরাল ডিশ এন্টেনা 
বহুধা বিস্তার আর রাজনীতি;
আট থেকে ষোলমুখী মাইক, প্রচুর ধর্মপ্রচার—
নিত্য নিত্য দামী দ্রব্যাদীর মূল্যে বিকিয়ে গ্যাছে
তোর শৈশব, তোর গ্রাম, তোর অচিনপুর;
খুব ছোট বেলায় দঁড়ি ছেঁড়া মোষের সামনে
বসে থাকার চেয়েও
অসহায় হতভম্ব নয় তবু এ থেমে থাকা?
কতবার ছিঁড়ে নেওয়া হলো
ভালোবাসার বুকের কাপড়, প্রচন্ড স্নিগ্ধ জায়নামাজ যত। 
তা-ও কেবল একটা সোঁদা গন্ধ শুঁকে 
বারবারই চলে যাওয়া ভুল জায়গায়—
এজন্মে 
এ ঘ্রাণ ছিলোনা আমার।
এজন্মে 
আমি ভেসে উঠিনি মৃত সারসের ডানা থেকে
কখনও আর...
Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s