মাসুমুল আলম

পানির সহজ সংকেত

এগুলো নিয়ে তুমি ক্যানো ভাবতেছো? এসব হয়তো ফটোশপের কারসাজি। যদিও আমি তেমন বুঝি না। কি, হয়তো তুমি র‌্যাম্পে হাঁটতেছো, আর ফাজিলগুলো তোমার ক্যাটওয়াকের সঙ্গে বেড়াল না, আস্ত একটা গরুর কোমর মটকে চলনের ভিডিওটা ইউটিউবে আপলোড দিয়েছে, কিন্তু তুমি মন খারাপ করো না, সোনা। তুমি এনজয় করো সব কিছু। তুমি শার্প। একটা কাস্টিং এর দরকার ছিলো, তুমি কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ালে তো একেবারে খাড়া-বেশ্যা। দাঁড়িয়ে থেকে, পরে, ঠিক যেই মুহূর্তে আবার তুমি এগিয়ে এলে তুমি যেনো প্রিটি উমানের পাছা-আন্দোলিত জুলিয়া রবার্টস। অবশ্যই তুমি সে-অর্থে  সুন্দর না, তুমি প্রতিভা, আফ্রিকান মডেলদের মতো তুমি, তুমি বিশাল বক্ষ বিপাশা বাসু, আমি তোমারে কুর্নিশ করি।  হ্যাঁ, তোমার প্রতিভা আছে। তোমার জন্য আমাদের সকলের পক্ষ থেকে স্ট্যান্ডিং অডিশন!

প্রতিভা একটা প্রতিক্রিয়াশীল শব্দ। কেউ কেউ বলে থাকে। উইলিয়াম ফকনার, নাম জানো তার, তিনি বলছেন, প্রতিভার বিষয়টা তিনি শুনেছেন, কিন্তু চোখে দ্যাখেন নি। নোবেল জয়ী ফকনার হলিউডি ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। আমার ধারণা, এমনতরো লোকদের মস্তিষ্কে অনেকগুলো প্রকোষ্ঠ থাকে। সেসব চেম্বারে আলাদা আলাদা কাজের এনকোড। না হলে তো স্যাংচুয়ারি, দি সাউন্ড অ্যান্ড দি ফিউরি, অ্যাজ আই লে ডাইং এক একটা মেলোড্রামা-ই হয়ে উঠতো। চিত্রজগতের নষ্টামি ওনার ছিলো কিনা জানি না, তবে নিশ্চয় পৃথক পরিস্থিতি বোঝার আত্মাভিমানটা ছিলো। না-থাকলে উনি হুয়ান রুলফো-মার্কেজ এঁদের পূর্বসুরি কিভাবে হবেন!

যখন ক্যান্টনমেন্টে যে মেয়েটা রেপের পর খুন হয়ে যায়, আর যে মেয়েটা বগুড়া থেকে ফেরার পথে বাসের মধ্যে রেপড এবং তার লাশ মধুপুর জঙ্গলে পাওয়া যায়-এটা তবে অ-নে-ক দিন আগের কোনো ঘটনা? ক-তো-দি-ন? ক-তো যুগ? শতাব্দি ব্যাপী বিস্মরণ কি? মার্কেজের ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড-এর মতো? আমি তোমাকে বলছি একটা ক্যুইজ, কৌন বানেগা ক্রৌড়পতি, কি নাম ওদের, ঐ গণধর্ষিত নিহতদের? কম্পিউটার জ্বি, তালা লাগা দিয়া যায়, যাঃ শ্লা, আমিই তো বলতে পারছিনা। কেননা, এখানে ঘটনাপ্রবাহ সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে। একটার পর একটা। একটার পর একটা। একটার পর একটা। তখন তুমি, তোমাকে, তুমি মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় কোয়েশ্চেন রাউন্ডে হঠাৎ তোমার পানির রাসায়নিক সংকেত মনে না-ও পড়তে পারে। এবং তুমি পারলে না। বদ্ধমূল ধারণা, সুন্দরীদের আপার চেম্বার খালি হয় (সে-অর্থে তুমি সুন্দরী না), তোমার আই কিউ নিয়ে লোকজন তোমারে ফে্‌ইসবুকে খুব ট্রল করলো। উত্তর দিতে ইংলিশ এ্যাকসেন্টে বাংলা উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তোমার লুক্কায়িত সলজ্জ দ্বিধাটা আমি টের পেলাম। সবাই জানলো যে, তুমি জানো না, কিন্তু তুমি তোমার স্মার্টনেস দিয়ে হাসিহাসি গোটা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটালে, যে, H2O নামে ধানমণ্ডিতে একটা রে-স-টু-রেন্ট আছে!

হ্যাটস অফ টু ইউ, আমি তোমারে নড করলাম, বাহ! তখন বুড়ি ভৈরব বা নাফ নদীর উপকূলে জনৈক লোকটি– দ্যাখো, ঘটনার ঘনঘটায় নামটাও তো মনে করতে পারছি না এখন, একের পর এক, একের পর এক শুদ্ধি অভিযানে নামটাই ভুলে গেছি, সোনা! – গুলিবিদ্ধ হুমড়ি খেয়ে পড়তেই অজস্র আত্মার আর্তচিৎকার শুনলাম, তারপর সাইলেন্স। ডেডস্টপ। তারপর মুকুট শোভিত বিজয়ী তোমার হাসি মুখটা দেখলাম। ব্যাপক করতালি। তোমার নামটা যেনো কি!

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s