মিসেস নিতিয়া ও আহমেদ নকীব সম্পর্কে আমি যা যা জানি- উপল বড়ুয়া

46310722_2225670030982846_3129631111114653696_n

মিসেস নিতিয়া ও বৃষ্টি বিষয়ক রহস্য উদঘাটনের আগে চলুন ঘুরে আসা যাক আহমেদ নকীবের পুরনো কাব্যজগৎ থেকে। কবি আহমেদ নকীবের সঙ্গে আমার মুখোমুখি দেখা ও বিড়ি ফুঁকা গত ২০১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। কিন্তু আরো পাঁচ বছর আগে থেকেই আমি উনাকে জানি। উনার কবিতা জানা মানেই তো উনাকে জানা। এবং আমি কবিতা ও কবি দুইজনকেই জানতে চাই যেহেতু…। একদিন হাতে এলো ‘আহমেদ নকীবের কবিতা সংকলন (নামটা ভুলও হতে পারে)। কিন্তু তার কিছু পঙ্কক্তি এখনো মুখস্ত বলে দিতে পারি। একবার ঝুম বৃষ্টিতে বারিধারা থেকে ফেরার সময় উনাকে এসব বলে-টলে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে চমকে দেওয়ারও চেষ্টা করছিলাম । অন্ধকারে আমার জানা হয় নাই উনি চমকাইছিলেন কিনা। গাড়িতে বসে বলছিলাম, ঘুম তছনছ/ যেন সে শুকনো পাতা।’  এসব শুনে নকীব ভাই মৃদু কি হাসছিলেন? প্রশ্ন রেখে গেলাম।

তবে নকীব ভাই খুলে দিছিলেন তার বিখ্যাত কবিতার চরিত্র আলমের  ইতিহাস। হে আলম, যে ছিল ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী। মই নিয়েই আকাশ ছুঁতে পারতো। তারপর ঘুরে ফিরে এলো ‘মহাপুরুষের জোব্বা’র কথা। ‘জোব্বা প্রদর্শনী চলছিলো- মহাপুরুষের জোব্বা; তবে সেই একই দশা; বোঝা গেলো তার একটা হাত লম্বা হয়ে ঢুকে পড়েছে নীতি নির্ধারকের ভূমিকায়।’ 

 এই কবিতা যখন প্রথম পড়ি থমকে গেছিলাম। তখন সাহিত্যের ‘স্যাটায়ার’  টার্মটার সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে। জর্জ অরওয়েলের ‘অরওয়েলিজম’ নিয়ে হালকা-পাতলা মাথা ঘামাইতেছি। তো, এই স্যাটায়ার-রোমান্টিকতা  মিলেই আহমেদ নকীব। তাই নয়, শহুরেপনা, যান্ত্রিকতা হাতুড়ির চিৎকার, দাঁত মুখ খিঁচে থাকা দালানে ঝঞ্জাল, স্ক্রু-ড্রাইভার, তলপেট ফুঁড়ে দেওয়া ড্যাগার, ঝিগাতলা, গ্রীনরোড, তেঁজগাঁও ঘুরে ঘুরে তিনি আমাদের নিয়ে যান এয়ারপোর্টে। উড়োজাহাজে তুলে নিয়ে যান এডিনবরা। কিংবা সদ্য বিদেশ ফেরত মিসেস নিতিয়া এয়াপোর্টে নেমেই ফোন করেন আহমেদ নকীবকে-

‘উনি এয়ারপোর্টে এসে ফোন করলেন;/ আমি বললাম: আপনি এখন ঢাকায়?/ -হ্যাঁ, এই মাত্র আসলাম। এখানে কী যে  বৃষ্টি!/ -কই না তো। তেজগাঁওয়ে তো রীতিমতো খরা। ’

[তখন জুড়া-জোড়া খরগোশ হয়ে পালিযে গেল]

এই যে মিসেস নিতিয়ার সঙ্গে আহমেদ নকীবের লুকোচুরি-বৃষ্টি বৃষ্টি খেলা, এইটা আমাদের মতো তরুণদের মনে হিংসের উদ্রেক করে। জেলাসি করে আমাদের। আমাদেরও ইচ্ছে করে মিসেস নিতিয়ার শাড়ি পরা দেখি, কিংবা বৃষ্টিতে ভেজা নাভি। কিংবা তার খোলা চুল। আমরা কল্পনা করি নিতিয়ার অবয়ব; বৃষ্টিতে ভেজা এক লম্বা ছিপছিপে গড়নের মধ্য বয়সী নিতিয়া। আমি তাকে ভালবেসে ফেলি অজান্তে। মিসেস নিতিয়া আমাকেও যদি বাচ্চা বলতেন। নিতিয়া, নকীব ভাইয়ের মতো আমিও ভালবাসি আপনাকে। কখনো কখনো ইচ্ছে করে আপনার চলাচলের রাস্তায় গাড়ি আটকায়া রাখি।

‘কথা বলতে চাই, দেখতে চাই/ মিসেস নিতিয়াকে অথচ এত/ এত গ্রীনরোডের প্রেম, আমরা/ গ্রীনরোডের রোদের নিচে দাঁড়িয়ে/ থেকে গ’লে যাচ্ছি, গ’লে যাচ্ছি,/ আমাদের অপেক্ষার বুদবুদ ফেটে/ যাচ্ছে, আর বিড়বিড় করছি, / নিতিয়া, নিতিয়া!’

[সবুজ মুখ]

নিতিয়া আপনি একটা জ্বর, ঘুম ঘুম লাল চোখ। ইরোটিক। আপনাকে পড়ি। আপনাকে পড়ে পড়ে কল্পনা করি। আপনি সর্বজনীন। আপনার বিদায় আমাকে বিরহে মথিত করে। মিসেস নিতিয়া-

‘জানি, মিসেস নিতিয়াকে; মানুষ ছিলেন একদা/ স্তন ছিঁড়ে ফেলে রেখে চলছে তাহার দিন, পায়ে চাকা!/ কেন যে এত এত লম্বা লাইন ধরে শিশুরা এগিয়েছে তার পিছে পিছে,/ যদি শূন্যে লাফিয়ে উঠে মিসেস নিতিয়া ঝাঁপ দেন কোটি কোটি/ মাইল নিচে, শিশুরাও কি দিবে লাফ সামনে মরণ জেনেও!/ কে তবে খাওয়াবে দুধ এই ছেঁড়া স্তন থেকে?/ আমিও কি লাফিয়ে পড়বো অনন্ত কুয়ার ভেতরে যদি তাকে না পাই আর?/ আর এই পাথরে, ঢাকা শহরের হৃৎপিণ্ডে, তার স্তন বপন করব আমি-/ পাবো বুঝি তাকে এক গাছের রূপেতে: / গাছে গাছে অনেক স্তন ঝুলে আছে, উড়ে আসে শিশুর দল/ নতুন স্তনের দিকে!’

[ফাতরা প্রেম]

মিসেস নিতিয়ার সাথে বৃষ্টি আসলো যেদিন। আহমেদ নকীব। প্রকাশন: উড়কি। প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১৮।

Advertisements

One thought on “মিসেস নিতিয়া ও আহমেদ নকীব সম্পর্কে আমি যা যা জানি- উপল বড়ুয়া

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s